1. admin@meghnarkagoj.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সন্তানকে নিয়ে হলে এসে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন যমজ দুইবোন! দেবিদ্বারে যুব মহিলা লীগের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্ম বার্ষিকীতে দোয়া ও আলোচনা সভা দেবিদ্বারে এমপি-চেয়ারম্যানের দ্বন্ধের তদন্ত প্রতিবেদন ১৫ কার্য দিবসে প্রধান মন্ত্রীর কাছে জমাদানের নির্দেশ আ’লীগ সভাপতি উপর হামলা ও এমপি রাজী’র নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে দেবিদ্বারে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল দেবিদ্বারে শান্ত হত্যাকান্ডে দুই আসামী গ্রেফতার, খুনিদের গডফাদারকে আইনের আওতায় আনার দাবী এলাকাবাসীর মাহবুবুর রহমানের মাতৃ বিয়োগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বাহরাইন জেলা শাখার শোক দেবিদ্বারে উপজেলা চেয়াম্যানের পানিবন্দী ৫০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ দেবিদ্বারে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই খুন দেবিদ্বারে নবাগত ওসি কমল কৃষ্ণ ধরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় দেবিদ্বারে ছাত্র বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

দেবীদ্বারে সাথী ফসল হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে বাঙ্গি’র চাষ

দৈনিক মেঘনার কাগজ
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৬০ বার পঠিত

মোঃ শাহিদুল ইসলাম:

বাংলােেদশের কৃষকগণ তাদের নিজস্ব জ্ঞান,অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে জলাবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো মোকাবেলা করে ফসল উৎপাদন করে আসছেন এবং নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন। কৃষকরা ঠিকই জানেন কোন ঋতুতে কোন মাটিতে কোন ধরনের ফসল উৎপাদন ভাল হবে। ঋতু বৈচিত্রের সাথে তাল মিলিয়ে কৃষকরাও চাষাবাদে ফসলে বৈচিত্র এনছেন। প্রান ও প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে কৃষকগন নিরন্তর উৎপাদন করে যাচ্ছেন ফসল। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন অর্জনে রাখছেন অসাধারণ ভুমিকা।

গ্রীস্মকালীন ফল বাঙ্গি। প্রচন্ড গরমে বাঙ্গি প্রাণে এনে দেয় স্বস্থি। গ্রীস্মকালে বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় বাঙ্গি জন্মে। শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজের পর বাঙ্গি দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছে। বাঙ্গিগাছ দেখতে অনেকটা শসা গাছের মতো, লতানো। দেবীদ্বার উপজেলার গুনাইঘর (দঃ) ইউনিয়নের শাকতলা এবং ধামতী উত্তর পাড়া মাঠ জুরে গত ৪০ বছর ধরে এবং দেবীদ্বারের আনাচে-কানাচে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করছেন প্রায় শতাধীক কৃষক। স্থানীয় বাঙ্গি চাষিরা জানায়, কম পুঁজিতে বেশী মুনাফা ও প্রচুর ফলন হওয়ার কারণে প্রতি বছর তারা বাঙ্গির চাষ করে আসছে। এ দুটি গ্রাম এখন মৌসুমী ফল বাঙ্গির জন্য বিখ্যাত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া ধামতী ও আশপাশের এলাকার কৃষি জমি বাঙ্গির চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই জীবন জীবিকার জন্য প্রধান ফসল হিসেবে এখানে ৪০ বছর ধরে বাঙ্গি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক।
অনেকে কাঁচা বাঙ্গি সবজি হিসেবে রান্না করে খেয়ে থাকে। ফল পাকলে হলুদাভ রঙ ধারণ করে। বাঙ্গি মূলত পাকা ফলের সুমিষ্ট সৌরভের কারণে বিখ্যাত। একটু বেশি পেকে গেলে বাঙ্গি ফেটে যায়। তাই অধিকাংশ বাঙ্গিকে ফাটা দেখতে পাওয়া যায়। ফলের ওজন এক থেকে চার কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এটি চাষের খরচ তুলনামূলক কম, আয় বেশি। তাই চাষিরা বাঙ্গি চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠছেন।

আরো পড়ুন :  দেবিদ্বারে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নব গঠিত কমিটি থেকে সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের পদত্যাগ

কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিতেও আসেন না,আর এই এলাকার (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ) কে তাকেও আমরা চিনিনা। আমরা সরকারের কাছ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতাই পাইনা। আমাদের বাঙ্গির আশে পাশের উপজেলার বাজার গুলোতে প্রচুর সুনাম ও চাহিদা রয়েছে। আমাদের এলাকার কৃষকরা খুবই পরিশ্রমী যার কারণে এত ভালো ও বিষমুক্ত ফলন উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এখানে প্রধানত দুই জাতের বাঙ্গি চাষ করি। বেলে ও এঁটেল বাঙ্গি। বেলে বাঙ্গির শাঁস নরম। খোসা খুব পাতলা, শাঁস খেতে বালি বালি লাগে। তেমন মিষ্টি নয়। অন্যদিকে এঁটেল বাঙ্গির শাঁস কচকচে, একটু শক্ত ও তুলনামূলক বেশি মিষ্টি। এবার ও গতবার ভালো দামে বাঙ্গি বিক্রি হয়েছে । বাঙ্গি চাষের জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী। উর্বর বেলে দোআঁশ ও পলি মাটি বাঙ্গি চাষের জন্য সর্বোত্তম।

৬০ বছর বয়সী কৃষক আঃ সালাম বলেন, ‘এবার তিন বিঘা জমিতে বাঙ্গির চাষ করেছি। সবমিলিয়ে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা মতো খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি করেছি। আরো প্রায় ৮/১০ হাজার টাকার বাঙ্গি এখনো মাঠে রয়েছে।

অপর কৃষক ধামতী উত্তর পাড়া শরিফ বলেন, ‘আমাদের বাঙ্গি বীজ নিজেরাই সংগ্রহ করে রাখি পরবর্তী বছরের জন্য। গতবছর বৃষ্টি ও শীল পড়াতে বাঙ্গি চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তবে চলতি বছরে বাঙ্গির উৎপাদন থেকে প্রচুর লাভ হয়েছে।

মাজহারুল ইসলাম (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ) কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের অভিযোগ পুরেরাপুরি সঠিক নয়। এই ফসলটির জন্য সরকারী কোন প্রনোদনা বা সহায়তা নেই,তবে কোন কৃষক পরামর্শ চাইলে আমরা তা দিয়ে থাকি।

দেবীদ্বার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আঃ রউফ বলেন, এতো পরিমানে বাঙ্গী চাষ এর আগে এই এলাকায় দেখা যায়নি এবং এবার যেহেতু ফলন ভাল আর কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন সেহেতু আগামীতে এর চাষের ব্যপ্তি স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে। তাই আমরা আগামী বছর বাঙ্গী চাষে সর্বোচ্চ পরামর্শ,সরকারী প্রণোদনা এবং সর্বপ্রকার খোজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা