1. admin@meghnarkagoj.com : admin :
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সন্তানকে নিয়ে হলে এসে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন যমজ দুইবোন! দেবিদ্বারে যুব মহিলা লীগের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্ম বার্ষিকীতে দোয়া ও আলোচনা সভা দেবিদ্বারে এমপি-চেয়ারম্যানের দ্বন্ধের তদন্ত প্রতিবেদন ১৫ কার্য দিবসে প্রধান মন্ত্রীর কাছে জমাদানের নির্দেশ আ’লীগ সভাপতি উপর হামলা ও এমপি রাজী’র নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে দেবিদ্বারে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল দেবিদ্বারে শান্ত হত্যাকান্ডে দুই আসামী গ্রেফতার, খুনিদের গডফাদারকে আইনের আওতায় আনার দাবী এলাকাবাসীর মাহবুবুর রহমানের মাতৃ বিয়োগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বাহরাইন জেলা শাখার শোক দেবিদ্বারে উপজেলা চেয়াম্যানের পানিবন্দী ৫০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ দেবিদ্বারে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই খুন দেবিদ্বারে নবাগত ওসি কমল কৃষ্ণ ধরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় দেবিদ্বারে ছাত্র বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

হোমনা নির্বাচন অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলে না সেবা, ঘুষ দিলে প্রশান্তি না দিলে ভোগান্তি

দৈনিক মেঘনার কাগজ
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ৯১ বার পঠিত

হোমনা প্র্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার হোমনা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলে না সেবা। চাহিদামত ঘুষদিলে প্রশান্তি না দিলে চরম ভোগান্তি। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে তারা এ সব কথা বলেন। ভোক্তভোগীরা জানান নির্বাচন অফিসারকে ঘুষ দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ভুল সংশোধন কিংবা স্থান পরিবর্তনসহ নির্বাচন অফিসের যে কোন সেবা পাওয়া যায়। আবার ঘুষ না দিলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মাসের পর মাস ফাইল পড়ে থাকলেও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন জনগন। তাদের অভিযোগ যারা টাকা দেন তাদের বেলায় কোন সিরিয়াল নাই ডেকে নিয়ে কাজ করে দিচ্ছে। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস শুধু তারিখ দিয়ে হয়রানি করছে। এমন কাজ তারা গোপনে নয়, প্রকাশ্যে করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে।

জানাগেছে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে নির্বাচন অফিসে আবেদন করলে,টাকা না পেলে কাগজে সমস্যা,কাগজে ক্রটি এমন নানা অজুহাতে ফাইলটি আটকে থাকবে মাসের পর মাস। তবে দালালের হাতে তাদের চাহিদা মত টাকা ধরিয়ে দিলে বা চুক্তি করলেই মিলবে সেবা। সন্ধ্যায় অফিস ছুটির পর ফাইল আর দালালদের নিয়ে বসে কাজের সিদ্ধান্ত নেন নির্বাচন অফিসার।

ভোক্তভোগীদের অভিযোগ,হোমনা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী থেকে শুরু করে এমএলএসএস, আউটসোর্সিংএর স্থানীয় কতেক দালালের সাথে আর্থিক চুক্তি ছাড়া মিলে না সেবা। ওই দালালরা অফিসের আশপাশে সকাল ৯টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত বসে থাকে। তাদের কাজ হল সেবা গ্রহীতাদের সাথে চুক্তি করে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেয়া।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নতুন এনআইডি কার্ড করতে ১০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা, সংশোধনের জন্য ক্যাটাগরি ভেদে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন তারা।

সরেজমিন উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘুরে দেখা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নির্বাচন অফিসের সামনে সেবা গ্রার্থীদের প্রচুর ভিড়। নির্বাচন অফিসের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা প্রায় শতাধিক সেবা গ্রহীতাকে দেখা গেছে। দড়জার সামনে বিক্ষোভ করছে। তাদের অভিযোগ নির্বাচন কর্মকর্তা টাকার জন্য শতশত সেবা গ্রহীতার ফাইল আটকে রেখে কোন কাজ করছে না। যারা টাকা দিচ্ছে তাদের বেলায় কোন আইন নাই। ডেকে ডেকে নিয়ে কাজ করে দিচ্ছে। দুই তিন মাসে আগের ফাইলের কোন কাজ করছে না।

আরো পড়ুন :  দেবিদ্বারে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মানবন্ধন

হোমনা কান্দা পাড়া গ্রামের মো. আলম মিয়া জানায়, তার ছেলে আরাফাতের নতুন আইডি কার্ড করতে ফাইল জমা দিয়ে অনেক দিন অফিসে ধর্না দিলেও কোন কাজ হয়নি।পরে নির্বাচন অফিসার কে ৫ হাজার টাকা দেয়া পর ২৪ ঘন্টার ভিতরেই ছবি উঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রিন্টিং কপি পেয়েছি ।

শ্রীপুর গ্রামের আমির হোসেন বলেন, আমার নাম সংশোধের জন্য সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে গেলে নির্বাচন অফিসার আমার নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় নির্বাচন অফিসার আমার সাথে দুর্ব্যহার করে এবং আমার ফাইল ঢিল মেরে ফেলে দেয়।

এদিকে মহিলা বিষয়ক অফিসে তাহমিনা নামক এক দালাল মামুন নামে এক ব্যক্তির নাম সংশোধের জন্য টাকা লেনদেন করছে। সেই চিত্র মোবাইলে ধারণ করতে গেলে মো. সবুজ নামের অফিসের এক কর্মচারি এসে বলেন, এ বিষয়ে স্যার ( নির্বাচন কর্মকর্তা) জানেন। আপনি স্যারের সাথে কথা বলেন। বলে তাকে অফিসে নিয়ে যায়।

ভাষানিয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, আমি বিদেশ যেতে আইডি কার্ড করতে অফিসে আসি। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তা আমার সকল কাগজপত্র দেখে বলেন, তোমার বয়স কম। আইডি কার্ড হবেনা। তখন রাসেদ নামের একজন অফিসের পেছনে নিয়ে বলেন স্যারকে (নির্বাচন কর্মকর্তাকে) কিছু খরচপাতি দিলে বয়স কোন সমস্যা হবেনা। তখন নির্বাচন অফিসারকে ৫ হাজার টাকা দিলে সে রাজি হয় এবং কাগজ পত্র রেখে সাথে সাথে ছবি তোলার জন্য বলে।

আছাদপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার আইডি কার্ডে নামের ভুল সংশোধনের জন্য অফিসে আসি। কিন্তু অফিসের কেউ আমার সাথে কথাই বলতে চায়না। পরে ঝোমা নামে মহিলা ( অফিস থাকে) আমাকে বলে ১ সপ্তাহের মধ্যে ঠিক করে দিবে, বিনিময়ে ৩ হাজার টাকা লাগবে। আমি বাধ্য হয়ে ৩ হাজার টাকা দেই। কিন্তু প্রায় দুই মাস হলেও কার্ড পাচ্ছি না।

আরো পড়ুন :  বিপিএলে ক্রিকেটাররা কে কোন দল

মাথাভাঙ্গা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নতুন আইডি কার্ড করতে অফিসে সকল কাগজপত্র জমা দেই। কিন্তু টাকা ছাড়া করবেনা বলে ফিরিয়ে দেয়। পরে ঝোমার মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর চার মাস পর কার্ড হাতে পাই।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিস সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, এ অফিসের ঝোমা, রাশেদ,সুরাইয়া, তাহমিনা দুলাল মাষ্টার,হাসানেরর মাধ্যমে ওসমান, কুতুব উদ্দিন নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে সেবা গ্রহীতাদের সাথে কন্ট্রাক করে অফিসে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে জানতে হোমনা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয়ে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে গেটের তালা খুলেনি। খবর পাঠালে তিনি জানান তিনি ব্যস্ত আছেন। অবসর সময়ে আসতে বলেছেন। পরে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে সাক্ষাতে কথা বলবো বলে ফোন রেখে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা